Thursday, 13 October 2016

মিডিয়ার প্রায় সবটাই বস্তুবাদী/নাস্তিকদের দখলে।


..
ছোটবেলায় শুনেছিলাম, একটা গ্লাস পানি দ্বারা অর্ধেক পূর্ণ থাকলে একে দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়ঃ
১।গ্লাসটি অর্ধেক পূর্ণ।
২।গ্লাসটি অর্ধেক খালি।
কিন্তু এখন দেখছি এ ব্যাখ্যা আরও একভাবে করা যায়!! সেটা হচ্ছে নাস্তিকীয় ব্যাখ্যা, অর্থাৎ গ্লাসটি যে অর্ধেক খালি তা এমনভাবে প্রচার করা যেন মানুষ মনে করে পুরাটাই খালি!
অনেকেই মনে করছেন এ কেমন কথা হলো? তাহলে চলুন একটা উদাহারণ দেখিঃ
উদাহারণ:
"আর এ কথাও জেনে রাখ যে, কোন বস্তু-সামগ্রীর মধ্য থেকে যা কিছু তোমরা গনীমত হিসাবে পাবে, তার এক পঞ্চমাংশ হল আল্লাহর জন্য, রসূলের জন্য, তাঁর নিকটাত্নীয়-স্বজনের জন্য এবং এতীম-অসহায় ও মুসাফিরদের জন্য; যদি তোমাদের বিশ্বাস থাকে আল্লাহর উপর এবং সে বিষয়ের উপর যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি ফয়সালার দিনে, যেদিন সম্মুখীন হয়ে যায় উভয় সেনাদল। আর আল্লাহ সব কিছুর উপরই ক্ষমতাশীল।”[আল কুরআন-৮:৪১]
★নাস্তিকীয় ব্যাখ্যাঃ উপরোক্ত আয়াতটি লক্ষ্য করুন। আল্লাহর জন্যেও গনীমতের মাল? আল্লাহ নিজেও কি গণীমনের মাল নেয়? কিভাবে? তার কাছে কিভাবে পাঠানো হয়? আল্লাহর কাছে পাঠানোর সিস্টেম যেহেতু কারও জানা নেই, তাই সে দায়িত্ব মুহাম্মদকেই দিয়ে দেয়া হোক, সেই পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। আর, মুহাম্মদের আত্মীয়ের ভাগও তার কাছেই যাবে। এতীম অসহায়দের অংশটুকুও মুহাম্মদের কাছেই থাকুক আপাতত। হেহে... মুহাম্মদের চালাকি দেখুন... আল্লাহ, তার আত্মীয়, এতিম, মুসাফির (মুসাফির কি প্রতিদিনই এসে বসে থাকতো?) এদের নাম লিখে লিস্ট বড় করে পুরো গণিমনের মালের ২০ শতাংশ হাতিয়ে নিয়েছেন মুহাম্মদ। আরেকটা বিষয় লক্ষ্য করুন, অন্য কোন মুমিনের আত্মীয়ের জন্যে কিছু বরাদ্দ দেয়া হলো না, কিন্তু মুহাম্মদের আত্মীয়ের কথা বলে স্পেশাল ভাগ নিতেন মুহাম্মদ!
★বাস্তবতাঃ রাসুলুল্লাহ (সাঃ) পঞ্চমাংশ হতে খুবই যৎসামান্য একটা অংশ নিজের জন্য নিতেন যা জীবন ধারনের জন্য অপরিহার্য। বাকীটুকু তিনি জিহাদের
(আল্লাাহর অংশ মানে আল্লাহর রাস্তায় খরচ করা) জন্য খরচ করতেন এবং অন্যান্য গরীব সাহাবীদেরকে বন্টন করে দিতেন। (বিস্তারিত দেখে নিন তাফসির ইবনে কাছীরে উক্ত আয়াতের তাফসিরে)।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর চরিত্র এত উচু মানের ছিল যে, তখনকার কাফেররা পর্যন্ত তাকে বিশ্বাস করতো।
যাহোক, রাসুলুল্লাহ সাঃ ও তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা কেমন ছিল দেখে নিন সহীহ হাদীছে-
"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার পরিবার এই দুনিয়া ছেড়ে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত কখনো এক নাগাড়ে তিনদিন পেট ভরে গমের রুটি খেতে পাননি।"
সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩৩৪৩), বুখারী, মুসলিম।
আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি সহীহ হাসান এবং উক্ত সূত্রে
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
★★ আসল কথা হচ্ছে যাকে দেখতে পারি না তার চলন বাকা'। নাস্তিকগণ কখনও কোন বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে কথা বলে না।বিজ্ঞানের প্রতিষ্টিত সত্য কখনও কুরআনের বিরুদ্ধে যাবে না, তবে থিওরি যেতে পারে। যেসব থিওরি কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক সেগুলো কিছু অতীত ভূল প্রমাণিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে বাকীগুলোও বিজ্ঞানীদের দ্বারাই ভূল প্রমাণিত হবে।
তবে আসল সমস্যা হচ্ছে, মিডিয়ার প্রায় সবটাই বস্তুবাদী/নাস্তিকদের দখলে। এই সুযোগে তাদের মিথ্যা তত্ত্ব ও কুযুক্তিগুলো প্রচার পাচ্ছে। আর সাধারণ মানুষ সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে এই ভূল জ্ঞানটাই আত্মস্থ করছে।
তবে নািস্তকরা যতই চক্রান্ত করুক ইসলাম পৃথিবীতে ঠিকে আছে এবং কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত থাকবে ইনশা আল্লাহ।
يُرِيدُونَ لِيُطْفِؤُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَاللَّهُ مُتِمُّ نُورِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ
08
তারা মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহর আলো নিভিয়ে দিতে চায়। আল্লাহ তাঁর আলোকে পূর্ণরূপে বিকশিত করবেন যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে। (আল কুরআন ৬১:৮)

No comments:

Post a Comment